পোস্টগুলি

Tt

 ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: কিসের খেলা, কার খেলা, কেনো খেলা? ✍শামসুল আলম ============== ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট আওয়ামীলীগের ছোট একটি জনসভায় বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এক ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা সংঘঠিত হয়, তখন ক্ষমতায় বিএনপি। এতে শেখ হাসিনা অক্ষত থাকলেও নিহত হয় আ’লীগের ২২ নেতাকর্মী।  ঐ গ্রেনেড হামলার জন্য আওয়ামীলীগ সর্বদা দায়ী করে বিএনপি সরকারকে, বেগম খালেদা জিয়াকে, এবং তারেক রহমানকে। দীর্ঘ ১৪ বছর পরে ২০১৮ সালে ঐ মামলার একটি রায় প্রদান করেছে নিম্নআদালত। ঐ রায় নিয়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে প্রতিনিয়ত বাগযুদ্ধ হয়। আওয়ামীলীগ ঐ হামলার দায় বিএনপি ও সেনাবাহিনীর ওপর চাপায়। অন্যদিকে বিএনপি বলছে যে, ঐ ঘটনায় আওয়ামীলীগ ও ভারত জড়িত ছিল।  ২০০৪ সালে যে সময়ে ঐ হামলার ঘটনা ঘটে, ঠিক ঐসময় দেশের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লক্ষ্মীপুরে একটি জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। গ্রেনেড হামলার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হন। অতঃপর ঘটনায় আহত আওয়ামীলীগ নেত্রী আইভি রহমান ও শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) তারিক সিদ্দিকীকে দেখতে তিনি ঢাকা সিএমইএইচে য...
 জহির রায়হানঃ আওয়ামী গুম রাজনীতির ইতিবৃত্ত গত জুলাইয়ে Reporters Without Borders [RSF] নামে সাংবাদিকদের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের বর্তমান বিনাভোটে ‘নির্বাচিত’ ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে Predator নামে অবহিত করেছে। যেখানে বলা হয়েছে তার প্রধান শিকার হচ্ছে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। এর পাশাপাশি দেশে সরকারি রাষ্ট্রীয়বাহিনী এবং প্রশাসনের মাধ্যমে গুম-খুন আর ক্রসফায়ারের মাধ্যমে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি।   কিন্তু বাংলাদেশে কী তিনিই প্রথম; যিনি এমন গুম-খুন আর ক্রসফায়ারের মাধ্যমে আতংক আর ত্রাসের এক রক্তাক্ত উপত্যকার মৃত্যুপুরী গড়ে তুলেছেন? বাংলাদেশ কিংবা তার পরিবারে? ইতিহাস কী বলে এ ব্যাপারে?   • ইতিহাস বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অব্যাহতি পর থেকেই এই স্বাধীন ভূখণ্ডে গুম-খুন আর ক্রসফায়ারের এই মানবতাবিরোধী রাষ্ট্রীয় অপরাধের মারণসংস্কৃতির শুরু হয়েছে। যার প্রথম শিকার হন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক, সাংবাদিক জহির রায়হান!*   [যদিও তারও আগে স্বাধীনতার মাত্র স্বাধীনতার ২ দিন পর সর্বপ্রথম গুম হন মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রস্তাবক ন...

শেখ মুজিবের বংগবন্ধু ও জাতির পিতার উপাধি লাভ ও তা প্রত্যাহারের ইতিহাস

(শ্লোগান -বাংলার মীর জাফর শেখ মুজিব-শেখ মুজিব) *********************************************************** "১৯৭৩ সালের ৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার পল্টন ময়দানের জনসমাবেশে গুলিতে নিহত দুইজনের লাশ সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম নিম্নোক্ত ঘোষণা পাঠ করেন। ‘‘এই সমাবেশের সামনে ডাকসুর পক্ষ থেকে আমরা ঘোষণা করছি যে, বিগত ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে ডাকসু’র পক্ষ থেকে আমরা যে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়েছিলাম ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে আজ সেই 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি প্রত্যাহার করে নিলাম। আমরা দেশের আপামর জনসাধারণ, সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে আজ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে তার বঙ্গবন্ধু বিশেষণ ব্যবহার করবেন না। একদিন ডাকসুর পক্ষ থেকে আমরা শেখ মুজিবকে 'জাতির পিতা' আখ্যা দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে আবার ছাত্রের রক্তে তার হাত কলঙ্কিত করায় আমরা ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে ঘোষণা করছি, আজ থেকে কেউ আর জাতির পিতা বলবেন না। শেখ...

ফাকভ্ল ভারত

 Uzzal Kanti Datta -  মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর লুটপাটের ইতিহাস ও সাহায্যের কারন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তি বাহিনী যখন দেশের ৯৫-৯৯ শতাংশ অঞ্চল মুক্ত করে ফেলেছিল, ঠিক তখন ৩রা ডিসেম্বর ভারতীয়  সেনাবাহিনী লুটপাট করার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারা ১৬ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশ জুড়ে নজির বিহীন লুটপাট চালিয়েছিলো। ৯৩ হাজার পাকিস্তানী সৈন্যদের ফেলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ- যার মূল্য ওই সময় ছিলো ২৭ হাজার কোটি টাকা, তার সবই ভারতীয় সেনাবাহিনী ১৫টি বিশাল জাহাজে করে বাংলাদেশ থেকে লুট করে নিয়ে যায়। অথচ সেই অস্ত্রের মালিকানা ছিলো পুরোপুরি বাংলাদেশের। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের শত শত মিল কারখানার যন্ত্রপাতি, ব্যাংক, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঘর-বাড়ির গৃহস্থালী জিনিসপত্র পর্যন্ত বাদ যায়নি লোভী ভারতীয় লুটেরাদের হাত থেকে। এসব সম্পদ ও দ্রব্যাদির তখনকার মূল্য ছিলো আনুমানিক ৯০ হাজার কোটি টাকা। শৌচাগারের বদনাগুলোও বাদ দেয়নি ভারতীয় লুটেরার দল। এছাড়াও যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধ পরবর্তীকালীন সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রদত্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অন্যান্য সাহায্যও লুট...

মাওলানা ভাষানীর গ্রহবন্ধীর ঐতিহাসিক চিঠি

ছবি
  ১/৭/৭৪ আমি গৃহবন্দী আন্দোলন চালাইয়া যাও প্রিয় দেশবাসী, হিন্দুস্থান আর রাশিয়ার চক্রান্ত এইবার নতুন মোড় নিয়েছে। শেখ মুজিবরে দিয়ে আমাকে সন্তোষের ঘরে গৃহবন্দি করা হয়েছে। ৫০০ পুলিশ ও রক্ষীবাহিনী মোতায়েন করিয়া আমার স্বাধীনতা হরণ করা হইয়াছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বলিতে যতটুকু ছিল এইবার তাহাও হারাইতে বসিয়াছে।  কিন্তু হতাশ হইবার কিছু নেই যদি জালেমের বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন চালাইয়া যাইতে পারেন। আমার আকুল আবেদন- দুর্বার গণআন্দোলন চালাইয়া যান। শত্রুর মোকাবেলা করুন। তাহাদের স্বপ্নসাদ চিরদিনের জন্য ধুলায় মিশিয়ে দিন। আল্লাহ আপনাদের সহায়। নিশ্চয়ই সত্যের জয় অনিবার্য।  মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী ১/৭/৭৪

ব্যক্তি স্বাধীনতার জোরে জিয়াউর রহমান কে ঘৃণা করতে পারেন। তবে, _____- মেজর ডালিম.

 জিয়াউর রহমানকে আপনি ঘৃণা করতেই পারেন, এটা আপনার ব্যাক্তি স্বাধীনতা। কিন্তু জিয়াউর রহমানকে ঘৃণা করার জন্য যে ব্যাক্তি স্বাধীনতা আপনি পেয়েছেন আপনার সেই ব্যাক্তি স্বাধীনতা অর্জনে জিয়াউর রহমান যে ভূমিকা পালন করেছেন অন্তত তার জন্য হলেও একজন জিয়াকে আপনি হাজার বার ভালোবাসতে বাধ্য।  আজ যে মাটিতে দাঁড়িয়ে জিয়াকে গালাগাল করছেন শেখ মুজিবকে হত্যার মিথ্যে অভিযোগে সেই মাটির বিজয়ের জন্য একজন জিয়ার ভূমিকা অপরিসীম। শেখ মুজিবের আটকের পর উনার আশে পাশের বড় বড় রাঘববোয়াল টাইপের নেতারা যখন জীবন বাঁচাতে পলায়নে ব্যাস্ত, ঠিক তখন একজন জিয়াই "We Revolt" আওয়াজে চিৎকার করে জানান দিয়েছিলেন এই মাটির বিজয়ের সূচনা।  শেখ মুজিবের হত্যার তাৎক্ষনিক কোন প্রতিবাদ ও প্রতিশোধ না নেওয়ায় একজন জিয়া যদি অপরাধী হন, তাহলে সমাজের প্রতিটা স্তরে, রাস্ট্রের প্রতিটা সেক্টরে, প্রতিটা বিভাগে, প্রতিটা ডিপার্টমেন্টে যে অসংগতি হচ্ছে তার জন্য আপনিও দায়ী। কারন এসব অসঙ্গতি দেখেও আপনি কোনদিন প্রতিবাদ করেন নি, কিংবা প্রতিশোধ নেন নি।  প্রতিদিন অন্যায়ভাবে শত শত মানুষকে মারা হচ্ছে এসব দেখার পরও আপনি যদি চুপ করে বসে থাকতে পারেন তবে ...

এরশাদ সরকারকে 'স্বৈরাচার' বলি কেন?

ছবি
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম লক্ষণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কথা বলা হয়ে থাকে,  এবং তা যে মোটেই অতিরঞ্জন নয়, তা সবাই জানেন। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, গত ৫০ বছরে নাগরিকদের আন্দোলনের কারণে মাত্র দুই দফা সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ঘটনা ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সেনাশাসক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের পতন। এরশাদের পতন ছিল জনগণের শক্তির বিজয়। এই সপ্তাহে এই বিজয়ের ২৫ বছর পূর্তি পালিত হচ্ছে, যা আমাদের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে পেছনে তাকানোর, সেই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের স্মৃতিচারণার। এই বিজয় অর্জিত হয়েছে অনেক আত্মত্যাগের বিনিময়ে, ফলে এই স্মৃতিচারণা কেবল ঘটনাপ্রবাহের নয়, বরং সেসব বীরকে স্মরণেরও সময়। এ-ও আমাদের স্মরণ করতে হবে যে এই আন্দোলনের শেষ পর্যায়ের সূচনা ১৯৯০ সালের অক্টোবরে হলেও তার পেছনে ছিল ১৯৮২ সাল থেকে সূচিত অব্যাহত সংগ্রামের ইতিহাস। কিন্তু এই সংগ্রামের কারণ কী ছিল? আশু লক্ষ্য ছিল ক্ষমতার হাতবদল, এরশাদ সরকারের অপসারণ। কিন্তু এই তাগিদটি তৈরি হয়েছিল কেন? ১৯৮২ সাল থেকে ক্ষমতাসীন ওই সরকার আচরণেই কেবল স্বৈরাচার ছিল তা নয়, আক...