শেখ মুজিবের বংগবন্ধু ও জাতির পিতার উপাধি লাভ ও তা প্রত্যাহারের ইতিহাস

(শ্লোগান -বাংলার মীর জাফর শেখ মুজিব-শেখ মুজিব)

***********************************************************

"১৯৭৩ সালের ৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার পল্টন ময়দানের জনসমাবেশে গুলিতে নিহত দুইজনের লাশ সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম নিম্নোক্ত ঘোষণা পাঠ করেন।


‘‘এই সমাবেশের সামনে ডাকসুর পক্ষ থেকে আমরা ঘোষণা করছি যে, বিগত ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে ডাকসু’র পক্ষ থেকে আমরা যে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়েছিলাম ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে আজ সেই 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি প্রত্যাহার করে নিলাম। আমরা দেশের আপামর জনসাধারণ, সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে আজ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে তার বঙ্গবন্ধু বিশেষণ ব্যবহার করবেন না।


একদিন ডাকসুর পক্ষ থেকে আমরা শেখ মুজিবকে 'জাতির পিতা' আখ্যা দিয়েছিলাম। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে আবার ছাত্রের রক্তে তার হাত কলঙ্কিত করায় আমরা ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে ঘোষণা করছি, আজ থেকে কেউ আর জাতির পিতা বলবেন না। শেখ মুজিবুর রহমানকে একদিন ডাকসু’র আজীবন সদস্যপদ দেয়া হয়েছিল। আজকের এই সমাবেশ থেকে ডাকসু’র পক্ষ থেকে আমরা ঘোষণা করছি, আজ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকসু’র আজীবন সদস্যপদ বাতিল করে দেয়া হলো।’’

(৩ জানুয়ারী ১৯৭৩, দৈনিক সংবাদ)


সভাশেষে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের নির্মম গুলির শিকার মতিউল ইসলাম ও মির্জা কাদেরের লাশ নিয়ে এক বিরাট বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন শ্লোগান সহকারে শহরের প্রধান রাজপথগুলো প্রদক্ষিণ করে বায়তুল মোকাররমে এসে সমাপ্ত হয়। সেদিন বিক্ষোভ মিছিলে উচ্চারিত শ্লোগানগুলো হচ্ছে—


‘নিক্সন-মুজিব ভাই ভাই,—এক রশিতে ফাঁসি চাই,’

'খুনিশাহী মুজিবশাহী, ধ্বংস হোক,ধ্বংস হোক'

'বাংলার মীরজাফর, শেখ মুজিব, শেখ মুজিব".

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মাওলানা ভাষানীর গ্রহবন্ধীর ঐতিহাসিক চিঠি