15 August, Mujib

 কেউ সাহস কইর‍্যা এইটা কইতে পারে না শেখ মুজিব নিজেই নিজেরে শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করার সব পথ রুদ্ধ কইর‍্যা দিছিলেন। কথাটা শেখ মুজিবরে বলছিলেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর তাজউদ্দিন নিজেই।


রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বাকশাল হওয়ার পরে এক্সিস্ট করতেছিলো না। এমনকি আমরাও নাগরিক ছিলাম না। শেখ মুজিব আইনত এই কাজ করতে পারেন না। তার সেই ম্যান্ডেট ছিলোনা। তিনি নিজেরেই নিজে আজীবন রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করতে পারেন না। 


শেখ মুজিব নিজেই নিজের এই দুঃখজনক পরিনতির জন্য দায়ী। ১৫ ই আগস্ট সামরিক ক্যুদেতা ছিলোনা। ১৫ ই আগস্ট নিছক বিপথগামী জুনিয়র সেনা অফিসারদের হত্যালীলা ছিলোনা। 


ইতিহাসের অনিবার্য পরিনতি ছিলো ১৫ ই আগস্ট। ১৫ ই আগস্ট ট্রাজিক কোন সন্দেহ নাই। শেখ মুজিবও ট্রাজিক নায়ক এতেও কোন সন্দেহ নাই। 


ট্রাজেডি আর ট্রাজিক নায়ক কাকে বলে জানেন? মানে যে নায়িকারে বিয়া করতে না পাইর‍্যা দেবদাস হয়, সে না। গ্রীক ট্রাজেডির ডেফিনেশন অনুসারে সেই ট্রাজিক নায়ক যে সুউচ্চ আসন থেকে নিজের বিরাট দুর্বলতায় দুর্দশায় পতিত হয়। শেখ মুজিব এই জন্যই তার সকল দুর্বলতা সত্ত্বেও মানুষের সিমপ্যাথি পাইছেন একজন ট্রাজিক নায়ক হিসেবেই। কারণ সে তার নিজের সাথে ট্রাজিক নায়করে রিলেইট করতে পারে। হাসিনা মুজিবের ট্রাজিক ইমেজকে মুইছ্যা দিছে। এইটা শেখ মুজিবকে ফিজিক্যালি হত্যার চাইতেও নির্মম। এইটা মুজিবের দ্বিতীয় মৃত্যু, আর সেইটা ঘটছে তার কন্যার হাতেই। ট্রাজিক ইমেজ হারায়ে মুজিব আর পাব্লিক সিমপ্যাথি পায় না। সে হাসিনার বাবা হয়ে ওঠে। 


শেখ মুজিবরে বাংলাদেশের মানুষ যেই আসনে বসাইছিলো, তিনি নিজেই সেই আসনের মর্যাদা রাখতে পারেন নাই। এইটা হাসিনা শত চেষ্টা করলেও উদ্ধার করতে পারবে না। এইটা অসম্ভব কাজ। 


শত সমালোচনা থাকলেও আমরা শেখ মুজিবকে তার সব দুর্বলতা সহকারেই যথাযথ সন্মান জানাবো স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে। আমরা শেখ মুজিবের সমালোচনা জারি রাখবো বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নির্মম স্বৈরশাসক হিসেবে। আর পনেরোই আগষ্টকে ইতিহাস মুল্যায়ন করবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে চুড়ান্ত ধ্বংসের হাত থেকে কিছুদিন ঠেকিয়ে রাখার একটা বিপ্লব প্রচেষ্টা হিসেবে। সেই বিপ্লব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে স্রেফ রাজনৈতিক অদুরদর্শীতার কারণে। বাকশাল ছিলো প্রতিবিপ্লব। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, এই প্রতিবিপ্লব সংগঠিত হয়েছিলো আগের বিপ্লবের নেতার হাতেই। 


১৫ ই আগষ্ট না হলে বাকশাল নামের রাষ্ট্র ধ্বংসকারী এই প্রতিবিপ্লব ঠেকানোর আর কী রাস্তা ছিলো? বলেন বিকল্প কী ছিলো? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটা ক্রিটিক্যাল পয়েন্ট বাকশাল। এই বাকশালকে বাদ দিয়ে আপনি তার পরবর্তী ইতিহাস মুল্যায়ন করতে পারবেন না। বাকশাল পরবর্তী বাংলাদেশে সেই বাকশালেরই নানামুখী এক্সপ্রেশন। আজ হাসিনা আদতে বাকশালই প্রতিষ্ঠা করছে। হাসিনার উৎখাত মানে বাকশাল থেকে দ্বিতীয় মুক্তি। 


১৫ আগষ্ট ছিলো একটা বিকল্পহীন পথ। যেই পথ বাইছ্যা নিতে বাধ্য করা হইছিলো। আপনি ১৫ ই আগষ্টকে বিপ্লব প্রচেষ্টা হিসেবে না দেখে শুধু হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখতে চাইলে ফরাসী বিপ্লবও একটা নিছক হত্যাকাণ্ড। রুশ বিপ্লবও একটা নিছক হত্যাকান্ড। 


বাংলাদেশের সো কল্ড ইন্টেলেজেনশিয়া যারা ১৫ আগষ্ট নিয়া বিহবল হইয়া যায়। তাদের জিগাই, ১৫ আগষ্ট না হইলে আপনি বাকশাল থিকা মুক্তি পাইতেন কেমনে? মুজিবের আন্ডারে ভোট করে উৎখাত করতেন নাকি রাস্তায় আন্দোলন করে উৎখাত করতেন?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মাওলানা ভাষানীর গ্রহবন্ধীর ঐতিহাসিক চিঠি